1. sagor630@yahoo.com : admi2017 :
  2. yesnayon@gmail.com : Nayon Howladar : Nayon Howladar
  3. thedeshbangla@gmail.com : Desh Bangla : Desh Bangla
আশ্বাসে থেমে আছে রেশমার স্বপ্ন

আশ্বাসে থেমে আছে রেশমার স্বপ্ন

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২১
  • ৪৮ বার

রেশমা আক্তার। বরগুনা সরকারি মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ২০১৭ সাল থেকে বহুবার মৃত্যুর সাথে পাঞ্জালড়ে এখনো টিকে আছে। প্রতিটি পাঞ্জায় নিঃস্বের শেষ প্রান্তে পৌঁছে দিয়েছে বরগুনা সদর উপজেলার উত্তর বড় লবন গোলা গ্রামের মাফুজা-বাবুলের পরিবারটিকে।

প্রলয়ংকরী সিডর উড়িয়ে নিল ঘরখানা। এই একযুগের বেশী সময় অতিক্রান্ত করলেও অদ্যাবধি মাথাগোঁজার ঠাঁই টুকুন নিশ্চিত করতে পারেনি দিন এনে দিন খাওয়া এ অসহায় দরিদ্র পরিবারটি। টিনের চালা দিয়ে মাঝেমধ্যে ঝুপড়িঘর বানালেও সহ্য হয়নি প্রকৃতির।

আইলা, মহাসেন, আম্ফানরা সর্বশক্তি প্রয়োগ করেছে দুর্বল ঝুপড়িঘরটির উপর। আম্ফান ক্ষমা করেনি মোটেও। একেবারেই অস্তিত্বহীন করে দেয় ঝুপড়িটিকে। একযুগের সিংহভাগই রেশমাদের কাটাতে হচ্ছে প্রতিবেশীর এবাড়ি-ওবাড়িতেই।
জনপ্রতিনিধি, সরকারি-বেসরকারি সংশ্লিষ্টরা বহুবার এসেছেন। ভাঙাচুরা বিধ্বস্ত ঝুপড়ির ছবি তুলেছেন। এনআইডির ফটোকপি নিয়েছেন। এদীর্ঘদিনে সংশ্লিষ্টদের অনেকের বদল হলেও বদল হয়নি রেশমাদের ঝুপড়িঘরের চেহারা।

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রলয়ংকরী তান্ডবের পরে এমপি, ডিসি, ইউএনও, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সকলদের দরবারেই স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে মাফুজা বেগম লিখিত আবেদন করে আকুতি মিনতি জানিয়েছেন একমাত্র মেয়ে রেশমার চিকিৎসা ও একটা ঘরের জন্য। আশ্বস্ত করেছেন অনেকেই কিন্তু আবেদনটি আশ্বস্তের মধ্যেই থেমে রয়েছে।

নানা রোগে আক্রান্ত রেশমার চিকিৎসা চালাতে গিয়েই নিঃস্ব হয়েছে পরিবারটি। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয়েছে মাসের পর মাস। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এব্যাপারে একটি মানবিক আবেদন পোস্ট করায় চিকিৎসা সহায়তা প্রদানে হাত বাড়িয়েছেন অনেকেই। ব্যয়বহুল এ চিকিৎসা কেন্দ্রে সহৃদয়বানদের সহায়তা ব্যতীত কোনক্রমেই চিকিৎসা সম্ভব হত না রেশমার।

দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা চলছে রেশমার। ঔষধ ফুরিয়ে গেলে প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ে। ভাত জোগাবেন না ঔষধ কিনবেন এ দ্বিধাদ্বন্দে কাটছে পরের ক্ষেতে খামারে কাজ করা পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী মাফুজা বেগমের। রেশমার বাবা বাবুল হাওলাদারও অসুস্থ অনেক বছর যাবত। কর্মক্ষমতা নেই। একমাত্র পুত্রসন্তান মাহফুজ শিশু শ্রেণির ছাত্র। পরিবারটির গুরুদায়িত্ব পালন করতে হয় মাফুজা বেগমকেই।
শীত, গ্রীস্ম, বর্ষা কোন ঋতুতেই রেশমাদের ঝুপড়িঘরটি বসবাস উপযোগী নয়। নিজেরা যে তুলবেন এমন অবস্থাও তাদের নেই।
মাফুজা ও বাবুল হাওলাদার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গরীব অসহায় ঘরহীন পরিবারে ঘর দিচ্ছেন। বিদেশিরা ঘর দিচ্ছে, এনজিওরা দিচ্ছে। এগুলো কাদের দিচ্ছে? তারা কি আমাদের চেয়েও অসহায়?
সরকারের একটি ঘর দাবি করে অসুস্থ রেশমা বলেন, একটা ভালো ঘরে, ভালো পরিবেশে থাকতে পারলে আমি সুস্থ হয়ে যেতাম।(ফেসবুক থেকে)

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 AmaderBarguna.Com