1. sagor630@yahoo.com : admi2017 :
  2. yesnayon@gmail.com : Nayon Howladar : Nayon Howladar
  3. thedeshbangla@gmail.com : Desh Bangla : Desh Bangla
লকডাউনকাল : সহযোগিতার হাতটা কি আমাদের গুটিয়ে গেলো?

লকডাউনকাল : সহযোগিতার হাতটা কি আমাদের গুটিয়ে গেলো?

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২১
  • ২০ বার

ভূঁইয়া আশিক রহমান : [২] দুর্যোগ-দুর্বিপাক আগেও এসেছিলো, এসেছে আবারও। মানুষ বিপদগ্রস্ত হয়েছে, বিপদ থেকে আবার ঘুরেও দাঁড়িয়েছে। কখনো একক প্রচেষ্টায়, কখনো কখনো সম্মিলিতভাবে। মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। সবসময়ই এদেশে এমনটি ঘটতে দেখা গেছে। করোনার প্রথম ঢেউয়ের সময়ও আমরা দেখেছি অভূতপূর্ব সব দৃশ্য। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি, সংগঠন একসঙ্গে এগিয়ে এসেছিলো, নিম্ন আয়ের দিন আনে দিন খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলো। ব্যবসায় লস, চাকরি হারানোর মধ্যবিত্তের পাশেও দাঁড়িয়েছিলো। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে এসে এর ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সহায়তাকারী অধিকাংশ হাতই গুটিয়ে বসে আছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। কেন এমনটা হচ্ছে? আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো? কতোটা দুর্বল হয়ে পড়লো যে, ন্যূনতম সহায়তাও করা যাবে না? এগিয়ে আসবে না? ব্যক্তি বা সংগঠনগুলো কি সক্রিয় আগের মতো? হলে কতোটা সক্রিয়? এ প্রশ্নগুলো উঠছে।

[৩] সরকার কী করছে, এ সময়ে মানুষকে এগিয়ে দেওয়ার জন্য? গত বছরের মতো ৪০-৫০ লাখ মানুষকে ঈদে হাজার দুই-আড়াই করে অর্থ দেবে? কী হবে সামান্য এই অর্থ দিয়ে? সকলে কি পাবে এই টাকা? অতীত অভিজ্ঞতা কিন্তু বেশি সুবিধার নয়। প্রশ্ন হচ্ছে, সরকার কি পারে না আরও বৃহত আকারে সহযোগিতার হাতটা বাড়াতে? মানুষের টাকাই তো মানুষকে দেবেন, তাহলে টাকার অভাব হবে কেন? দ্বিতীয়বার ভাবতে হবে কেন? কেন ব্যাপকহারে নিম্ন ও মধ্য আয়ের বিপদে থাকা মানুষকে সহযোগিতায় এগিয়ে আসবে না সরকার? টানা লকডাউনে বহু মানুষ বিপদের চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। গোপনে মুখ লুকায়, গুমরে কাঁদে, কিন্তু বলতে পারে না আর্থিক অনটনের কথা- এমন মানুষও সমাজে আছে বহু। তাদের কথাও সিরিয়াসলি ভাবতে হবে।

[৪] জনপ্রতিনিধিরা কি পাশে আছেন আমজনতার? সরাসারি নির্বাচিত তিন’শ সংসদ সদস্য আছেন। তারা যদি নিজ নিজ এলাকায় বিপদে থাকা মানুষের দাঁড়ান, খুব কি অসুবিধায় পড়বেন? প্রতিটি এলাকায় কতোজন মানুষ চরম বিপদগ্রস্ত? আর্থিক অনটনে আছেন? খুব বেশি কি? অনেক বেশি হওয়ার কথা নয়। যে সংখ্যাটা হবে, একজন সংসদ সদস্য, চেয়ারম্যান, মেম্বার মিলে অনটনে থাকা মানুষটি অনায়সেই করোনাকালীন এই বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পারেন। তারা হয়তো সহযোগিতা করেনও। কিন্তু কতোটুকু করেন? সবাই কি আসে তাদের সহযোগিতার আওতায়? এমন প্রশ্নও উঠছে মানুষের মধ্যে।

[৫] আমি বলছি না সহযোগিতার মনোভাব মরে গেছে আমাদের। এখনো বহু ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, রাজনীতিবিদ মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তা যে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম, তা আমাদের বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না। আমাদের সক্রিয়তা, উদ্যেম, আগ্রহ করোনার প্রথম ঢেউয়ের চেয়ে দ্বিতীয় ঢেউয়ে অনেকটাই কম, দেখা দৃশ্যমান। এটা হয়তো আর্থিক সামর্থ্যরে সীমাবদ্ধতা, হয়তো নির্লিপ্ততা। আমাদের তো নির্লিপ্ত হলে চলবে না। মানুষের পাশে দাঁড়াতেই হবে।

[৬] সরকার, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংগঠন সম্মিলিতভাবে প্রয়াস চালালে এই দুর্যোগকাল পার করতে পারবো আমরা। হ্যাঁ চাইলে তা খুব সহজেই পারবো। চাঁদা তুলেও বিপদগ্রস্ত মানুষকে সহযোগিতা করা যাবে। প্রয়োজন আমাদের আবারও সক্রিয় প্রচেষ্টা। আমরা কি আবারও সেই প্রয়াস চালাতে সচেষ্ট হবো? আমরা কি শুনতে পাচ্ছি, লকডাউনে উপার্জনহীন অসহায় মানুষটির আর্তচিৎকার? কষ্ট আর হাহাহাকার কি দেখতে পাচ্ছি না?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 AmaderBarguna.Com