1. sagor630@yahoo.com : admi2017 :
  2. yesnayon@gmail.com : Nayon Howladar : Nayon Howladar
  3. thedeshbangla@gmail.com : Desh Bangla : Desh Bangla
মেয়র আইভির সমর্থকদের বিরুদ্ধে যুবলীগের নেতা নিয়াজুলের মামলায় নারায়ণগঞ্জ  আবারও উতপ্ত 

মেয়র আইভির সমর্থকদের বিরুদ্ধে যুবলীগের নেতা নিয়াজুলের মামলায় নারায়ণগঞ্জ  আবারও উতপ্ত 

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ১৯৪ বার
আইভি
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি  : নারায়ণগঞ্জে হকার উচ্ছেদ নিয়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষের প্রায় ৩ বছর পর আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ঐ ঘটনায় আহত  এমপি শামীম ওসমান অনুসারি যুবলীগ নেতা ও ব্যবসায়ী নিয়াজুল ইসলাম খান।
২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের ওপর হকার, পুলিশ ও মেয়র আইভী সমর্থকদের সঙ্গে ওই ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল।
২১ ডিসেম্বর সোমবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা খাতুনের আদালত নিয়াজুল ইসলামের অভিযোগটি আমলে নিয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেলেও অজ্ঞাত আসামির সংখ্যা জানা যায়নি।
আগের দিন রোববার অভিযোগটি আদালতে জমা দিয়েছিলেন নিয়াজুল ইসলাম। এর আগেও সংঘর্ষের পরদিন (২০১৮ সালের ১৭ জানুয়ারি) নিয়াজুল ইসলাম তাকে হত্যাচেষ্টা ও লাইসেন্স করা অস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনায় সদর থানায় একটি মামলার আর্জি দিলেও সেটি মামলা হিসেব রুজু না করে সাধারণ ডায়েরি নেয় পুলিশ।
অপরদিকে মেয়র আইভী হকার ইস্যুতে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষের ঘটনায় তাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে ঘটনার ১ বছর পর ২০১৯ সালের ৬ ডিসেম্বর একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় কোনো হকার বা হকার নেতার নাম না থাকলেও সেখানে আসামি করা হয় মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সেক্রেটারি মিজানুর রহমান সুজন, যুবলীগ নেতা জানে আলম বিপ্লব, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা নাছির উদ্দিন ও চঞ্চল মাহমুদকে।
ওই মামলায় এমপি শামীম ওসমানকেও ঘটনার হুকুমের আসামি করা হয়েছিল। মেয়র আইভীর দায়ের করা মামলাটি এখনও চলমান রয়েছে।
ওই মামলায় এমপি শামীম ওসমানকেও ঘটনার হুকুমের আসামি করা হয়েছিল। মেয়র আইভীর দায়ের করা মামলাটি এখনও চলমান রয়েছে।
আদালত সূত্র জানায়, নিয়াজুল ইসলামের মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন- সিটি কর্পোরেশনের ঠিকাদার জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক  আবু সুফিয়ান, অব্যাহতিপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাব সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান মাসুম, বাসদ নেতা কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস, মহানগর যুবদলের সভাপতি কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খোরশেদ, কাউন্সিলর  কবির হোসেন, মহানগর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক কাউন্সিলর  হান্নান সরকার, মেয়র আইভীর ছোট ভাই শহর যুবলীগের সেক্রেটারি আলী রেজা উজ্জ্বল, মেয়র আইভীর ভাগিনা মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মিনাজুল কাদির মিমন, ঠিকাদার শহর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল হুদা বাবু, বিএনপি নেতা সরকার আলম, হাজী নেওয়াজ, সৈকত মেম্বার, মোতালেব, ফারুক, লিপু, আমিনুল ইসলাম।
এদিকে মামলার বাদী যুবলীগ নেতা ও ব্যবসায়ী নিয়াজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার দিন আমি নারায়ণগঞ্জ ক্লাব থেকে ফুটপাতের ওপর দিয়ে হেঁটে চাষাঢ়া যাচ্ছিলাম। মেয়র আইভী আওয়ামী লীগ করেন, তিনি মারলে কষ্ট পেতাম না কিন্তু অহেতুক মেয়র আইভীর সঙ্গে থাকা বিএনপি-জামায়াতের লোকজন আমার ওপর হামলা করে মারাত্মক আহত করে। আমার লাইসেন্স করা পিস্তল ছিনতাই করে নিয়ে যায়। অথচ মেয়র আইভী উল্টো আমাকেসহ দলের নেতাদের বিরুদ্ধেই মামলা করেছেন।
তিনি বলেন, আমার মামলাটি পুলিশ গ্রহণ তো করেইনি, উল্টো ২ বছর ধরে আমি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। তাই বিচার বিভাগের ওপর আস্থা রেখেই আমি আদালতে মামলা করেছি।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি বিকালে শহরে হকার উচ্ছেদ করতে নিজের কয়েকশ’ সমর্থক নিয়ে শহরে বের হন মেয়র আইভী। একপর্যায়ে শহরের সায়াম প্লাজা মার্কেটের সামনে যুবলীগ নেতা নিয়াজুল ইসলামের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তাকে বেদম মারধর করেন আইভী সমর্থকরা। একপর্যায়ে আত্মরক্ষার্থে নিয়াজুল তার লাইসেন্সকৃত পিস্তল বের করলেও গুলিবর্ষণ করেননি। কিন্তু এরপরও তাকে রাস্তায় ফেলে মারতে থাকে আইভী সমর্থকরা।
একপর্যায়ে হকাররা তাকে বাঁচাতে এলে বাধে ত্রিমুখী সংঘর্ষ। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, পুলিশের শতাধিক রাউন্ড শটগানের গুলি, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ শামীম ওসমান সমর্থক নেতাকর্মীদের ওপর গুলিবর্ষণ করলে মাঠে নেমে আসেন শামীম ওসমান। সংঘর্ষের সময় আইভী সমর্থকরা ফুটপাতে থাকা হকারদের চৌকিতে অগ্নিসংযোগ করে। সংঘর্ষে মেয়র আইভী, সাংবাদিক, হকারসহ কমপক্ষে অর্ধশত লোক আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র আইভী অভিযোগ করেন, তাকে হত্যা করতে শামীম ওসমানের নির্দেশে তার লোকজন এ হামলা করেছে। এ সময় তিনি নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের প্রত্যাহার দাবি করে বলেন, প্রশাসনের পূর্ণ সহায়তায় এ হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
অপরদিকে ঘটনার পর শামীম ওসমান এমপি বলেন, প্রশাসন যদি আমার পক্ষে হতো তাহলে প্রশাসন হকারদের ওপর গুলি ছুড়ত না। আমি দৌড়ে গেছি একটাই কারণে- আমার পার্টির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আমাকে ফোন করে বলেছেন পরিস্থিতি শান্ত করতে। আমি না গেলে গণ্ডগোল আরও বড় হতো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 AmaderBarguna.Com