1. sagor630@yahoo.com : admi2017 :
  2. yesnayon@gmail.com : Nayon Howladar : Nayon Howladar
  3. thedeshbangla@gmail.com : Desh Bangla : Desh Bangla
আমি কেন জার্মানিতে ফেরত গেলাম না!

আমি কেন জার্মানিতে ফেরত গেলাম না!

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৬৪৩ বার
জার্মানিতে

দেলোয়ার হোসেন ফাহিমঃ আমি কেন জার্মানী ফেরত গেলাম না এই প্রশ্নের জবাব দেয়া লাগে মাঝে মাঝে। সবার প্রশ্ন সেখানকার নিশ্চিত জীবন ছেড়ে কেন এই দেশে?

দেশে ব্যাক করে আমি কিছু চাকরির ইন্টারভিউ দেই। কয়েকটি এম্বাসি এবং ডেভালপমেন্ট সেক্টরের কিছু ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশনে আবেদনগুলো করি।

স্যাড থিং ছিল, আবেদন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে কোন ফরেনার আমাকে জিজ্ঞেস করে নাই, বাবু কেন তুমি দেশে চলে আসলে? কিন্তু আমার দেশী লোকজন আমায় বলে, সম্ভবত আপনি সেখানে ক্যারিয়ার গড়ার সম্ভাবনা না দেখে চলে আসছেন, তাই না?

এমন প্রশ্ন শুনার পরে পুরো দিনটা আমার খারাপ কেটেছে। আমি সৌভাগ্যবান যে আমার ফ্যামিলী কিম্বা আমার চারপাশের মানুষগুলো কখনই আমার উপর আস্থা হারায়নি। যখন যা করেছি, তারা পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। দোয়া করেছে।

দা দেশ বাংলা ফেসবুক পেজে সরাসরি যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন

এই দেশ থেকে বের হওয়ার সুযোগ থাকলে এই দেশে না থাকার যথেষ্ট কারণ আছে। তাই হচ্ছে গত কয়েক বছর। আমরা অনেক সহজে বলে দেই, সুখী জীবনের জন্য তারা দেশ ছেড়ে চলে গেছে। কিন্তু আমরা বুঝার চেষ্টা করি না এই মানুষগুলোকে কি পরিমাণ অবমূল্যায়নের স্বীকার হতে হয়েছে। নানা বিবেচনায় এই মানুষগুলোকে বঞ্চিত করা হয়। বিশ্বাস করেন, নিজে দেশ, বাবা-মা, আত্মীয় স্বজন ছেড়ে থাকতে খুব ভালো লাগে বলে আমার কখনই মনে হয়নি।

আমি জার্মানীতে যত দিন ছিলাম, আলহামদুলিল্লাহ, ভালো ছিলাম। মাস শেষে যা পেতাম, খেয়ে-দেয়ে আরও থাকতো।

তবে সব কিছুর পরেও আমার মধ্যে এক ধরনের অপূর্ণতা কাজ করতো। বাবা-মা, বন্ধু-আড্ডা আহ্। আর সব সময় দেশে কিছু প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানোর প্ল্যান ঘুর ঘুর করতো মাথায়। বিশেষ করে তরুনদের নিয়ে কাজ করবো-এটা আমার ভালো লাগা। ইউরোপে আমি এটা পাচ্ছিলাম না। ফলে সব কিছু থাকার পরেও আমার মাঝে এক ধরনের না পাওয়া জেগে বসতো।

মূল কথায় ফেরত আসি। এর আগে আরেকবার এমন একটা সিচুয়েশনে পড়ি আমি। প্রজেক্টের কাজে আমি পড়াশুনার মাঝে ১ মাসের জন্য দেশে আসি। আমার সাথে বসনিয়ার এবং জার্মানীর ২ জন কলিগ আসে। ২ জনেরই গায়ের রং সাদা।

ওরা হোটেলে থাকতো। গুলশান এলাকায়। দিনের কাজ শেষে আমি ওদের সাথে যেতাম। তো প্রায়শ সিকিউরিটিতে থাকা মানুষগুলো ওদের কে চেক করতো না। চেক করতো আমায়।

তো আমার বসনিয়ার কলিগ বললো, ফাহিম, কাহিনী কি বলতো? আমি ততক্ষণে বুঝি যে ও কি বলবে। লজ্জা পেলে আমার কান লাল হয়ে যায়। সেদিনও তেমন হয়েছিল্। ও বলে এটা কেমন আচরণ। ওরা আমাদের চেক না করে তোমাকে চেক করে কেন?

আমি বলি, তোমাদের গায়ের রং সাদা। এবং তোমরা জার্মানী থেকে আসছো। ইংরেজী বলো ইত্যাদি।
ও আমায় বলে, নেভার মাইন্ড ফাহিম। আমি বলি, আরে না। আমার দেশী মানুষ আমায় সন্দেহ করে। মাইন্ড করে কি হবে।

এবার যখন ঐ ভদ্রলোক আমায় বলে যে জার্মানী সুবিধা করতে পারেন নাই, তাই না? আমি সিস্টেমে অন্য প্রসঙ্গ নিয়ে আসি। উত্তর দেই নাই। কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে ইচ্ছে করে না।

সোনারগাঁয়ে প্রেমিকার মৃত্যুতে ফাঁসদিয়ে প্রেমিকের আত্মহত্যা

তো এভাবে আমরা একদিকে কিছু মানুষকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করি এবং কেউ যদি ফেরত আসতে চায় তাও বন্ধ করে দিতে চাই।

নোট: বাইরের জীবন নিশ্চিত জীবন যারা ভাবেন তারা আসলে খুব জেনে শুনে বলেন বলে মনে হয় না। দূরের ঘাস সবুজ বেশী। বাইরে গিয়ে যে পরিশ্রম আমরা করি, তা দেশে থাকতে করি না অনেক সময়। আর আমরা বাইরের মানুষদের টাকা পাঠানোর খবরটা নেই, কিন্তু দেশে ফিরতে না পারা, প্রিয় মানুষদের দেখতে না পারা, সেখানে টিকে থাকার জন্য যে স্ট্রাগলের মধ্যে দিয়ে যাওয়া লাগে সেগুলো আমরা খেয়াল করি কম। সুন্দর সুন্দর জায়গায় দাঁড়িয়ে ভালো রেজুলেশনের ফোনে ছবি তুলে ফেইসবুকে দেয়া মানেই সুখে থাকা নয়।

তবে বাইরে যারা অনেক সুখে আছেন, তারা মাইন্ড কইরেন না কেমন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 AmaderBarguna.Com